অনলাইনে পরীক্ষায় ইউজিসি’র সাত শর্ত

0 ২৫১

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ বন্ধ ঘোষণা করলেও অনলাইনে ক্লাস চলমান রাখ হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন এসাইনমেন্টের মাধ্যমে ব্যস্ত রাখা হলেও মূল্যয়ন পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার নীতিগত কোনে সিদ্ধান্ত না হওয়ার শীক্ষার্থীদের অটো পাসের মাধ্যমে ক্লাস বা শ্রেণীতে উর্ত্তীণ বা উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে এমন পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি। ফলে সেশনজটসহ শীক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ ও চাকরির বয়সজনিত বেশ কিছু জটিলতার তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে বিশ্বিবদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নিতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

গত ৬ মে ২০২১ (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনলাইন মিটিং-এ ইউজিসির দেয়া সাত শর্তে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভ্যন্তরীন পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে, অনলাইনে পরীক্ষার নেওয়ার পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ইউজিসি অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে যে সাতটি শর্ত দেয় সেগুলোঃ

১। যেকোনো বিষয়ের তত্ত্বীয় বা ব্যবহারিক পাঠ অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উক্ত বিষয়ের চূড়ান্ত মূল্যায়ন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। তবে শুধুমাত্র যেসব ব্যবহারিক কোর্স হাতে-কলমে কাজ করা ব্যতীত সম্পন্ন করা সম্ভব নয় তা অবশ্যই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুবিধাজনক সময়ে ক্লাস করে সম্পন্ন করতে হবে।

২। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সব বিষয়ের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সত্যিকারের মেধা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলমান পদ্ধতি ও স্কেল গ্রেড প্রদান করতে হবে।

৩। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ তাদের নিজেদের জন্য উপযােগী অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সুস্পষ্ট পদ্ধতি গ্রহণ করবে। বাস্তবতার নিরিখে সকল সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এবং যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করবে।

৪। যেকোনাে তত্ত্বীয় বিষয় এবং ল্যাব বা গবেষণাগারে হাতে-কলমে শেখানোর প্রয়ােজন নেই এমন ব্যবহারিক বিষয়ে চূড়ান্ত নম্বর দেয়া বা গ্রেডিং করার জন্য অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে প্রদান করা যেতে পারে।

৫। ব্যবহারিক ক্লাসের বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টের ভিডিও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আপলােড করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ইমেইলে এক্সপেরিমেন্টের পুরানাে ডেটা প্রেরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা এসব ডেটা অ্যানালাইসিস করে সংক্ষিপ্ত রিপাের্ট সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে প্রদান করবে।

৬। ল্যাব সংশ্লিষ্ট নয় এমন থিসিস বা গবেষণা অনলাইনে নির্দিষ্ট তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে করা যেতে পারে। গবেষণা বা থিসিসের হার্ডকপি গৃহীত হওয়ার পর অনলাইনে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে।

৭। অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষার সুষ্ঠু সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গ্রামে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয় গতির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হনে। এক্ষেত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা যেতে পারে।

শেষকথা.
অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া ও পরীক্ষায় স্বচ্ছতার উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। সেশনজট ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে এর কোনো বিকল্প নেই। উল্লেখ্য, গত ৫ মে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা ২০২০-২০২১ অনলাইনে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষা-ভর্তি বন্ধ করতে বলেছে ইউজিসি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.