আর্জেন্টিনা বনাম কলম্বিয়া হেড টু হেড

0 ২৩১

ফুটবল বিশ্বে যে দলগুলোর নাম বেশি উচ্চারিত হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম একটি দল হলো আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দল ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা।অপরদিকে, ১৯২৬ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচে অংশগ্রহণ করা ও ১৯৩৬ সাল হতে ফিফা ফুটবল সংস্থার সদস্য পদ পাওয়া দল কলম্বিয়া।২০১৪ সালে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া দলটি ফুটবলের কিংবদন্তি দল আর্জেন্টিনার সাথেও রয়েছে রেকর্ড সংখ্যক হেড টু হেড ম্যাচ। আর্জেন্টিনা বনাম কলম্বিয়া হেড টু হেড ম্যাচগুলোর ফলাফল পরিসংখ্যান ও পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৪৫ সাল হতে ২০২১ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বনাম কলম্বিয়া আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ৪০ টি যার ৮ ম্যাচের ফলাফল অমিমাংসীত বা ড্র হয়। বকি ৩২ টি ম্যাচের ৯ টি ম্যাচ কলম্বিয়ার পক্ষে থাকে এবং ২৩ টি আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকে।

আর্জেন্টিনা বনাম কলম্বিয়া হেড টু হেড ম্যাচের ফলাফল, পরিসংখ্যান ও ইতিহাস

আর্জেন্টিনা প্রথম করম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে ৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৪৫ তারিখে কোপা আমেরিকা আসরে। প্রথম ম্যাচেই কলম্বিয়াকে ৯-১ গোলে শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে আবারও কোপা আমেরিকা আসরের সুবাদে মুখোমুখী হতে হয় এই দুট দলকে এবং একইভাবে ৬-০ গোলে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে বিদায় নিতে হয় কলম্বিয়াকে।

দীর্ঘ দশ বছর বিরতীর পর ১৯৫৭ সালের মার্চ মাসের ১৩ তারিখ মাঠে নামে দল দুটি।এই ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারতে হয়েছে ৮-২ গোলে।পরবর্তীতে, ১৯৬৩ ও ১৯৭২ সালে আরও দুটি ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারতে হয় ৪-২ ও ৪-১ গোলে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হিসেবে আর্জেন্টিনাকেও কুপোকাত করতে সামর্থ অর্জন করে এই দলটি। ২৪ আগস্ট ১৯৮৪, আন্তর্জাতিক এক প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজয় বরণ করতে হয় কলম্বিয়ার নিকট।

অবশ্য, ১৯৮৫ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ২ ও ১৬ জুনের দুটি ম্যাচে ৩-১ ও ১-০ গোলে এবং ১৯৮৬ সালের সাউথ আমেরিকান গেমসের দুটি ম্যাচে ৩-১ ও ২-০ গোলে কলম্বিয়াকে হারায় আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে ১৯৮৭ ও ১৯৮৯ কোপা আমেরিকা আসরে একটি ম্যাচ ও আন্তর্জাতিক প্রীতি এক ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-১ ও ১-০ গোলে জয়লাভ করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া।

১৯৯১ সালের কোপা আমেরিকা আসরের ম্যাচে আর্জেন্টিনার সাথে কলম্বিয়ার খেলা হলে ২-১ গোলে আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে। তবে, ১৯৯৩ সালের কোপা আমেরিকা আসরে দুটি ম্যাচে মুখোমুখী হয় দল দুটি যেখানে ২৩ জুনের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয় এবং ১ জুলাইয়ের ম্যাটিতে আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে।

আবারও ভাগ্যের গণনায় কলম্বিয়া এগিয়ে আসে। ১৯৯৩ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে দুটি ম্যাচের দুটিতেই ২-১ ও ৫-০ গোলে হারতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে এবং ১৯৯৫ সালের এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ০-০ গোলে ড্র করে দল দুটি।

১৯৯৭ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের দুটি ম্যাচে মুখোমুখি হলে একটিতে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে বিজয়ী হয় এবং অপরটিতে ১-১ গোলে ড্র করে। ৪ জুলাই ১৯৯৯ কোপা আমেরিকা আসরে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে কলম্বিয়ার নিকট হারতে হয়।

১৯৯৯ সালের অপর এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয়লাভ করে। এছাড়া, ২০০০ ও ২০০১ সালে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও কলম্বিয়াকে ৩-১ ও ৩-০ গোলে পরাজিত হতে হয়।

কলম্বিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ২০০০ সালে এক ম্যাচে মুখোমুখি হলে খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয়। অপরদিকে, ২০০৪ সালের দুটি ম্যাচের একটিতে কলম্বিয়া ২-০ গোলে জয়লাভ করে এবং অপরটিতে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জয়লাভ করে।

২০০৫ সালে ফিফার আয়োজিত এক ম্যাচে ১-০ গোলে এবং ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকা আসরের এক ম্যাচে ৪-২ গোলে জয়ী হয় আর্জেন্টিনা। তবে ২০০৭ সালের ২০ নভেম্বর ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা আয়োজিত কলম্বিয়া ২-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে পরাভূত করে।

২০০৯ সালের ৯ জুন অপর এক ম্যাচে জিতে যায় আর্জেন্টিনা কিন্তু ২০১১ সালের কোপা আমেরিকা আসরের ম্যাচটি গোল বিহীন ড্র হয়। একই বছর ফিফার আয়োজিত আরেক ম্যাচ ২-১ গোলে জিতে যায় আর্জেন্টিনা। তবে ২০১৩ এর ম্যাচটি আবারও গোল শূন্য ড্র হয়।

২০১৫ সালে কোপা আমেরিকা ও ফিফার আয়োজিত দুটি ম্যাচেই আর্জেন্টিনা জয়ী হয়। ২০১৬ সালে একটি ম্যাচ খেলে দল দুটো যেখানে কলম্বিয়া ৩-০ হোলে হেরেছে।

তবে, ২০১৮ সালের একটি ম্যাচ গোল বিহীন ড্র করে কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনা এবং ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকা আসরের ম্যাচে ২-০ গোলে জয়ী হয় এবং ৮ জুন ২০২১ তারিখের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। ৬ জুলাই ২০২১ তারিখে কোপা আমেরিকা আসরের ম্যাচে ১-১ (৩-২) গোলে আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে।

শেষকথা

বিশ্বের যে কয়টি দল ফুটবল খেলে তার মধ্যে ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনার রেকর্ড গুলো নিয়ে আমাদের দেশে বেশি উত্তেজনা দেখা যায়। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমরিকা কাপ যে খেলার আসরই হোক না কেন আমরা যেন ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার বাহিরে বের হতে পরছি না। ঠিক যেমনটি হয়ে থাকে আমদের দেশীয় ফুটবল খেলায় আবাহনী ও মোহামেডান নিয়ে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.