আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল হেড টু হেড

3 ২,৮৬৫

ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি ও চির প্রতিদ্বন্দ্বি দুটি দল ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা, যার সমর্থকদের মধ্যেও বিরাজমান এই উত্তেজনা যা আমাদের দেশে একটু বেশিই। গুগলে ‘আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল হেড টু হেড’ সার্চ করলে ‘আর্জেন্টিনার ১১ গোল খাওয়ার রেকর্ড’, ‘আর্জেন্টিনার যত লজ্জার রেকর্ড লিস্ট/ছবি‘, ‘আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় পরাজয়গুলো‘, ‘আর্জেন্টিনার ১১ গোল খাওয়ার ইতিহাস‘ এই সার্চ ট্যাগগুলোর পাশাপাশি ‘আর্জেন্টিনা vs brazil খেলা কবে’-এই ট্যাগটি পাওয়া যায়।এমন ট্যাগ বিশ্লেষনে বুঝা যায় যে আমরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে কতটা ইমোশনাল।ফুটবল জগতে সবথেকে পুরাতন দল দুটি ১৯১২ সাল হতে আন্তর্জাতিক মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অদ্যাবধি প্রায় ১১২ হেড টু হেড ম্যাচে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়। ব্রাজিল আর্জেন্টিনা হেড টু হেড এই ম্যাচগুলোর ফলাফল ও গোলের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায় ব্রাজিল ৪১ ম্যাচে হারে আর আর্জেন্টিনা ৪৬ টি ম্যাচে পরাজিত হয়।বাকি ২৫টি ম্যাচের ফলাফল অমীমাংসিত রয়ে যায় বা ড্র হয়।

আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল হেড টু হেড ম্যাচগুলোর ফলাফল ও গোলের পরিসংখ্যান

১৯১২ সালের ২২ আগষ্ট প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। তখন হয়তো ভাবতে পারেনি যে দল দুটো তাদের সমর্থকদেরও প্রতিদ্বন্দ্বি করে তুলবে। কোপা প্রিমিয়ার অনার আর্জেন্টিনা (১৯০৮-১৯২০) আসরের এক ম্যাচে ব্রাজিলকে আর্জেন্টিনা ৪-০ গোলে হারায়। দল ‍দুটি আবার ১৯১৪ সালে আন্তর্জাতিক এক প্রীতি ম্যাচে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব লড়াইয়ে মুখোমুখি হলে আর্জেন্টিনা এই ম্যাচেও ৩-০ গোলে জয়লাভ করে। একই বছর রোকা কাপ (১৯১৪-১৯৭৬) আসরের আর্জেন্টিনা বিপক্ষে ব্রাজিল খেলতে নামলে ব্রাজিল ১-০ গোলে জয়লাভ করে।

আর্জেন্টিনার ১১ গোল খাওয়ার রেকর্ড

১৯১৬ সালে কোপা আমেরিকা আসরে দুই দল খেলতে নামলে লড়াইটা ১-১ গোলে অমীমাংসিত রয়ে যায়। রোকা কাপের ১৯১৬ সালের আসরে অবশ্য আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে ব্রাজিলের কাছে হারতে হয়েছে। এদিকে, ৩ অক্টোবর ১৯১৭ সালের কোপা আমেরিকা আসরে খেলতে নেমে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার নিকট ৪-২ গোলে পরাজিত হয়। অবশ্য, পরের আসর ১৯১৯ সালে ব্রাজিল ৩-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায়।একই বছরের ১ জুন অনুষ্ঠিত এক খেলায় ৩-৩ গোলে ড্র করে।

ব্রাজিলের সাথে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় পরাজয়গুলো’র মধ্যে ১৯২০ সালের কোপা আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ দুটোও পড়ে যেখানে আর্জেন্টিনা ২-০ ও ৩-১ গোলে পরাজিত হয়। পরবর্তী বছর ১৯২১ সালের কোপা আমেরিকা আসরেও আর্জেন্টিনাকে হারতে হয়েছে ১-০ গোলে।

আর্জেন্টিনার যত লজ্জার রেকর্ড লিস্ট/ছবি

পরপর তিন ম্যাচে হার মেনতে পারেনি। তাইতো ১৯২২ সালের কোপা আমেরিকা ও রোকা কাপ-এর ম্যাচগুলো তার প্রতিশোধ হিসেবে যথাক্রমে ২-১, ২-১ গোলে জয়লাভ করে। একইভাবে, ১৯২৩ সালের তিনটি ম্যাচে আর্জেন্টিনা একটি ম্যাচে জয়লাভ করলে ব্রাজিল প্রথম জ শেষ ম্যাচে বিজয়ী হয়। ম্যাচ তিনটির ফলাফল ব্রাজিল ২-১, আর্জেন্টিনা ২-০ এবং ব্রাজিল ২-০।

১৯২৪ সালে কোনো ম্যাচে মুখোমুখিতে হতে না হলেও ১৯২৫ সালে ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৪-১ গোলে ব্রাজিল জয়লাভ করে। তবে, ২৫ সালের দ্বিতীয় ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। ১৯২৫ পরবর্তী ১২ বছরের ব্রাজিল আর্জন্টিনা কোন খেলায় মুখোমুখি হয়নি। তবে, ১৯৩৭ সালের কোপা আমেরিকা আসরে দুটি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-০ ও ২-০ গোলে জয়লাভ করে।

আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় পরাজয়গুলো

রোকা কাপ ১৯৩৯ সাল আসরের ১৫ ও ২২ জানুয়ারী দুটি খেলায় মুখোমুখি হয় দল দুটি যেখানে শ্রেষ্ঠত্বের লাড়াইয়ে প্রথম ম্যাচে ৫-১ গোলের ব্যবধানে ফুটবল দল আর্জেন্টিনা জয়ী হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-২ গোলে হারতে হয়েছে। পরবর্তী সাল ১৯৪০, এই বছর ইতিহাসের সবথেকে বেশি ‍সংখ্যক (পাঁচটি) ম্যাচ খেলে দল দুটি। সবকটি ম্যাচেই অবশ্য রোকা কাপ আসরের। এই আসরের প্রথম ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। পরের দুটি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ ও ৬-১ গোলে জয়লাভ করে। তৃ্তীয় ম্যাচটিতে আর্জন্টিনাকে ব্রাজিলের কাছে ৩-২ গোলে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে এবং পঞ্চম ম্যাচটিতে ৫-১ গোলে জয়লভ করে আর্জেন্টিনা।

১৯৪২ সালের কোপা আমেরিকা আসরে একটি মাত্র ম্যাচ খেলে দল দুটি যেখানে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়লাভ করে।

১৯৪৫ সালে কোপা আমেরিকা ও রোকা কাপের সুবাদে দল দুটি চারটি ম্যাচে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে সুযোগ পায়। বছরের প্রথম ম্যাচটি ছিল কোপা আমরিকা আসরের যেখানে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয়ী হয়। পরের ম্যাচটি ছিল রোকা কাপের এবং সেই ম্যাচেও আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে ৪-৩ গোলে। পরের ম্যাচ ২০ ডিসেম্বর ১৯৪৫, ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার যত লজ্জার রেকর্ড ও সবচেয়ে বড় পরাজয়গুলো ও গোল খাওয়ার রেকর্ড আছে তার মধ্যে একটি।ম্যাচটিতে ব্রাজিলে বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে ৬-২ গোলে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে এবং ২৩ ডিসেম্বরের ম্যাচটিতেও আর্জেন্টিনা পরাজিত হয় ৩-১ গোলে।

আর্জেন্টিনার ১১ গোল খাওয়ার ইতিহাস

অবশ্য ১৯৪৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী কোপা আমেরিকা আসরের একটি ম্যাচ যেখানে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জয় পায়।

১৯৪৬ থেকে ১৯৫৫ দীর্ঘ নয় বছর কোন ধরনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে দল দুটোকে দেখা যায় নি। ১৯৫৬ সালে কোপা আমেরিকা আসরে ব্রাজিলের কাছে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত হতে হয়। একই বছরের ১৮ মার্চ প্যান আমেরিকা চ্যাম্পিয়নশিপ আসরে দল দুটো ২-২ গোলে ড্র করে। পরের ম্যাচটিতেও দল দুটি ০-০ গোলে ড্র করে।১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক এক প্রীতি ম্যাচে অবশ্য আর্জেন্টিনা ব্রাজিলে বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়লাভ করে।

১৯৫৭ সলে কোপা আমেরিকা  ও রোকা কাপের সুবাদে তিনটি ম্যাচে মুখোমুখি হয় দল দুটো যার প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ৩ এপ্রিল ১৯৫৭ যেখানে ৩-০ গোলে আর্জেন্টিনা জয় পায়।পরের ম্যাচ দুটো ছিল রোকা কাপের যার একটিতে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে এবং অন্যটিতে ব্রাজিল ২-০ গোলে জয়লাভ করে।

আর্জেন্টিনা vs brazil খেলা কবে

১৯৫৯ সালের দুটি ম্যাচের একটি ১-১ গোলে ড্র এবং অন্যটিতে ৪-১ গোল আর্জেন্টিনা জয়ী হয়। এদিকে ১৯৬০ সালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা পাঁচটি ম্যাচে নিজেদের শক্তির পরীক্ষায় প্রথমটিতে ২-১ গোলে আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে। পরের ম্যাচটি ১-০ গোলে ব্রাজিল জয়ী হয়।তৃতীয় ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা ৪-২ গোলে জয়লাভ করে। পরের দুটি ম্যাচে ব্রাজিল ৪-১ ও ৫-১ গোলে জয়লাভ করে।

১৯৬০ সালের একটি মাত্র ম্যাচে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ০-০ গোলে ড্র করে।

১৯৬৩ সালের কোপা আমেরিকা ও রোকা কাপের সুবাদে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা তিনটি ম্যাচ খেলে যেখানে প্রথম দুটো খেলায় আর্জেন্টিনা ৩-০ ও ৩-২ গোলে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়লাভ করে এবং বছরের শেষ খেলায় ব্রাজিলের কাছে আর্জেন্টিনা ৫-২ গোলে হেরে যায়।

১৯৬৪ সালে লিটল ওয়র্ল্ড কাপ খ্যাত এক ‍টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়লাভ করে এবং একই বছর আন্তর্জাতিক এক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়লাভ করে।পরের বছর ১৯৬৫ সালের ৯ জুন দল দুটো আন্তর্জাতিক এক প্রীতি ম্যাচে ০-০ গোলে ড্র করলেও ১৯৬৮ সালে অনুষ্ঠিত দুটি ম্যাচে ব্রাজিল ৪-১ ও ৩-২ গোলে জয়লাভ করে।

১৯৭০ সালের দুটো আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের একটিতে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এবং অন্যটিতে ব্রাজিল ২-১ গোলে জয়লাব করে। অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের রোকা কাপের ম্যাচ ‍দুটো ১-১ ও ২-২ গোলে ড্র হয়।

১৯৭৪ সাল পরবর্তী খেলাগুলো ছিল আর্জেন্টিনার লজ্জার পরাজয় বরণের সময়কাল। ৩০ জুন ১৯৭৪ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আসরের খেলাটিতে ব্রাজিলে নিকট ২-১ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের কোপা আমেরিকা আসরের দুটি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১-০ ‍ও ২-১ গোলে এবং ১৯৭৬ সালের লিটল ওয়াল্ড কাপের দুটি ম্যাচে ২-১ ও ২-০ গোলে হেরে যায়।

এদিকে, ১৯৭৮ সালের ফিফা ওয়াল্ড কাপ আসরের ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হলেও ৭৯ সালের কোপা আমেরিকা আসরের একটি ম্যাচে ২-১ গোলে পুনরায় পরাজয় বরণ করতে হয় আর্জেন্টিনাকে।তবে ১৯৭৯ সালের একই আসরের অন্য ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। অন্যদিকে, কনকাকাফ গোল্ড কাপ ১৯৮১ সালের আসরের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ১-১ গোলে ড্র করলেও ১৯৮২ সালের ফিফা ওয়াল্ড কাপ আসরের খেলায় ৩-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারতে হয়।

১৯৮৩ সালের কোপা আমেরিকা আসরের দুটি ম্যাচে মুখোমুখি হলে প্রথম খেলায় আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে জয়লাভ করে এবং দ্বিতীয় ম্যাচটি ও ১৯৮৪ সালের একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ গোল শুণ্য ফলাফলে ড্র হয়। এদিকে, ১৯৮৫ সালের অন্য একটি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ব্রাজিলের নিকট ২-১ গোলে হারতে হয়েছে।

পরবর্তীতে ১৭ জুন ১৯৮৮ একটি টুর্ণামেন্টে মুখোমুখি দুই দল গোল শূন্য ড্র করে এবং ১৯৮৯ সালের কোপা আমেরিকা আসরের খেলায় আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় অর্জন করে। এদিকে, ৯০’র ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরের সৌজন্যে দেখা হয় দল দুটোর যেখানে ব্রাজিল ১-০ গোলে অর্জেন্টিনাকে হারানোর সামর্থ্য অর্জন করে।

১৯৯১ সালে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচসহ কোপা আমেরিকা আসরের একটি ম্যাচে দল দুটি মুখোমুখি হয় যেখানে প্রীতি দুই ম্যাচ ৩-৩ ও ১-১ গোলে ড্র এবং কোপা আমেরিকা আসরের ম্যাচটিতে ৩-১ গোলে আর্জেন্টিনা জয় লাভ করে।

১৯৯৩ সালে একটি প্রীতি ম্যাচ ও কোপা আমেরিকা আসরের এক ম্যাচে দল দুটো তাদের শ্রেষ্ঠত্ব জানান দিতে মুখোমুখি হলেও ম্যাচ দুটোর প্রথমটিতে ১-১ গোলে ড্র হয়। অপরদিকে, পরের ম্যাচটি  ১-১ (৫-৬) গোলে আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে। এদিকে, ১৯৯৪ সালের অন্য এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ব্রাজিল ২-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারাতে সক্ষম হয়।

১৯৯৫ সালের ১৭ জুলাই কোপা আমেরিকা আসরের ম্যাচ খেলতে দু’দলের দেখা হয় যেখানে খেলাটি ২-২ গোলে অমীমাংসিত থাকে। একই বছর অন্য এক প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলে কাছে পরাজিত হয়।

১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালে কোনো ধরনের খেলায় এই দুই দলকে মুখোমুখি হতে না হলেও ১৯৯৮ সালে মাত্র একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে। উক্ত খেলায় ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে জয়লাভ করে।

এদিকে, ১৯৯৯ সালে কোপা আমেরিকা আসরের এক ম্যাচ ও আন্তর্জাতিক দু’টো প্রীতি ম্যাচে খেলতে নামলে কোপা আমেরিকা আসরের খেলায় ব্রাজিল ২-১ গোলে জয় পায়। তবে, প্রীতি ম্যাচ দুটোর প্রথমটি আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে এবং পরেরটিতে ব্রাজিল ৪-২ গোলে জয়লাভ করে।

২০০০ সাল, ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে মুখোমুখি হলে ব্রাজিল ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। একই আসরে ২০০১ সালে দল দুটি খেলতে নামলে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারতে হয়েছে।

পরবর্তীতে, দুই বছর পর ২০০৪ সালে আবারও ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের নেতৃত্ব বাছাইয়ের সুযোগে দল দুটো নিজেদের যোগ্যতা প্রমানে মাঠে নামে এবং ফলাফল ৩-১ গোলে ব্রাজিল জয়লাভ করে। একই বছর কোপা আমেরিকা আসরের এক খেলায় দল দুটো ২-২ গোল করলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা পেনাল্টিতে জয়লাভ করে।

২০০৫ সালের এক খেলায় আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয় পায় এবং একই বছর কোপা আমেরিকা আসরের এক খেলায় অর্জেন্টিনাকে ৪-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ২০০৬ সালের এক প্রীতি ম্যাচ খেলতে দু’দলের প্রতিযোগীতায় ফলাফল ৩-০ গোলে ব্রাজিল জয়লাভ করে।

২০০৮ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে আবারও মুখোমুখি দল হিসেবে মাঠে নামলে খেলাটি ০-০ গোলে ড্র হয়। অপরদিকে, ২০০৯ সালের ম্যাচটিতে ৩-১ গোলে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় পায়। তবে, ২০১০ সালের প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনার কাছে হারতে হয়েছে।

২০১১ সালে ব্রাজিল আয়োজিত এক আঞ্চলিক টূর্ণামেন্টে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দুটো খেলায় মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলে প্রথম ম্যাচে গোল শূন্য ড্র  পরেরটিতে ব্রাজিল ২-০ গোলে জয়লাভ করে। ২০১২ সালে তিনটি ম্যাচের প্রথমটি ছিল প্রীতি ম্যাচ যেখানে আর্জেন্টিনা ৪-৩ গোলে জয়ী হয়। পরের ম্যাচ দুটো ছিল ব্রাজিল আয়োজিত আঞ্চলিক টূর্ণামেন্ট যার প্রথমটিতে ব্রাজিল ২-১ গোলে এবং পরেরটিতে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয়লাভ করে।

এদিকে, ২০১৪ সালের এক খেলায় মুখোমুখি হয়ে দল দুটো ২-০ গোলে ফলাফল করে যেখানে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় পায়। ২০১৫ ও ২০১৬ ফিফা আয়োজিত ম্যাচের ২০১৫ সালের খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয় এবং ২০১৬ ম্যাচটিতে ব্রাজিল ৩-১ গোলে জয়লাভ করে।

২০১৭ ও ২০১৮ সালে দল দুটো আঞ্চলিক এক টূর্নামেন্টের সুবাদে খেলার সুযোগ পায় যেখানে ২০১৭ সালের ম্যাচটিতপ আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে এবং ২০১৮ সালের ম্যাচটিতে ব্রাজিল ১-০ গোলে জয়লাভ করে।

২০১৯ সালের কোপা আমেরিকা আসরে আবারও মুখোমুখি হলে ব্রাজিল ২-০ গোলে এবং একই বছর আঞ্চলিক এক কাপে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে জয়লাভ করে

দীর্ঘদিন বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক আসরের ফাইনালে খেলে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কোনো ট্রপি নিজেদের ঘরে আনতে ব্যর্থ আর্জেন্টিনার গ্লানি মোচনের চেষ্টায় ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা আসরে মুখোমুখি ব্রাজিলের বিপক্ষে ১ গোল করে দীর্ঘ ২৮ বছর পর কোনো বিজয়ের হাসি মাখা কাপ ঘরে তুললো আর্জেন্টিনা।

৩ Comments
  1. […] মুখোমুখি হচ্ছে সে খবরের লোভে। এর মাঝে ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা হেড টু হেড খেলা হলে তো কথাই নেই। উৎসবের আমেজ […]

  2. […] আমেরিকার হওয়া ৪৮ আসরের ফুটবল খেলার  ব্রাজিল আর্জেন্টিনার হেড টু হেড ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় সর্বমোট ৩৩ টি যার […]

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.