ইভ্যালির রিওয়ার্ড পয়েন্ট গণনা ও ব্যবহার করবেন যেভাবে

0 ১৯৭

দেশ সেরা ই-কমার্স ইভ্যালি ডটকম ডটবিডি সম্প্রতি তাদের কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক কর্মপদ্ধতিতে ব্যপক পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইভ্যালি চালু করলো Evaly Priority Store এবং অ্যাপস-এ সংযোজন করলো রিওয়ার্ড পয়েন্ট। যদিও ইভ্যালি অনেক দিন থেকেই ঘোষণা দিয়ে আসছিল এবং গত ৫ জুন ২০২১ তারিখে সিইও মোহাম্মদ রাসেল ফেসবুক লাইভে এসে ইভ্যালি প্রাইয়োরটি স্টোর ও রিওয়ার্ড পয়েন্ট হিসাব ও গণনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়।

Evaly Priority Store

দেশের নাম্বার ওয়ান ই-কমার্স সাইট ইভ্যালি’র সিইও জানান, তাদের বিজনেস পলিসি বা ব্যবসায়িক কর্মপদ্ধতির অংশ হিসেবে ইভ্যালি চালু করলো প্রাইয়োরটি স্টোর যেখানে তারা মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি তাদের চিরাচরিত অফার আইটেমসমূহও বাজার মূল্যে বিক্রি করবে।

ইভ্যলি এপস রিওয়ার্ড পয়েন্ট হিসাব বা গণনা করবেন যেভাবে

প্রাইরটি স্টোর হতে প্রতিটি কেনাকাটায় খরচ হওয়া টাকার বিপরীতে গ্রাহক প্রাপ্ত হবেন নির্দিষ্ট পরিমাণ রিওয়ার্ড পয়েন্ট। এই রিওয়ার্ড পয়েন্ট গ্রাহকদের একাউন্টে জমা হবে যার উপর ভিত্তি করে গ্রাহককে কয়েকটি ক্যাগরিতেও ভাগ করা হবে। এই ক্যাটাগরিগুলো হলো সিলভার, গোল্ড, ডায়মন্ড ও প্লাটিনাম।

সিইও মোহাম্মদ রাসেল তার ফেসবুক লাইভে বলেন, অনেকেই হয়তো আমাদের রিওয়ার্ড পয়েন্ট ও প্রাইরিটি স্টোর নিয়ে দ্বিধান্বিত। ইভ্যালির রিওয়ার্ড পয়েন্ট গণনা করা হবে আমাদের প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে খরচ হওয়া টাকার উপর ভিত্তি করে।

সিইও’র ভাষ্যমতে, গ্রাহক কর্তৃক খরচ হওয়া প্রতি টাকার জন্য এক পয়েন্ট করে দেওয়া হবে। এসব পয়েন্ট হিসাব করে গ্রাহকে দেওয়া হবে কয়েকটি লেভেল। এই পয়েন্ট বা লেভেলের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে চলমান সাইক্লোন বা আর্থকোয়েক কিংবা ফ্লাশ সেলের প্রোডাক্ট ডেলিভারি করা হবে। ডেলিভারি করার ক্ষেত্রে রিওয়ার্ড পয়েন্ট হতে প্রতি ১০ টাকা মূল্যমানের পণ্য ডেলিভারিতে ১ পয়েন্ট করে গণনা করা হবে।

মূলত, ইভ্যালি মূল ধারার ই-কমার্সে ফেরার একটি ধাপ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইভ্যালি অন্যান্য ই-কমার্সের মত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরলো।

আমরা জানি, ২০২৯ সালের ১৬ই ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করা ইভ্যালি শুরুর পর থেকে আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বড় বড় ছাড় ও অফার দিয়ে। এর পাশাপাশি ক্যাশব্যাক দিয়ে তা আবার ইভ্যালি একাউন্টের ওয়ালেটে জমা করত। এই ক্যাশব্যাক দিয়ে গ্রাহকগণ পূনরায় কেনাকাটা করতে পরত এবং প্রতি লেনদেনে ১০০ ভাগ ক্যাশব্যাক মানি ব্যবহার করতে পারত।

পরবর্তীতে, ঘোষণা দিয়ে তা ১০০ শতাংশ ব্যবহারের পরিবর্তে ৬০/৪০ নীতিতে চলে আসে ইভ্যালি। অর্থাৎ গ্রাহক তার ইভ্যালি ওয়ালেট হতে ৬০ ভাগ এবং নতুন পেমেন্ট ৪০ ভাগ ব্যবহার করে পণ্য কিনতে পারতেন। পরবর্তীতে, ইভ্যালি ওয়ালেট ব্যালেন্স ব্যবহার একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে, ইফুড অর্ডারে ইভ্যালির ওয়ালেট ব্যালেন্স ব্যবহার এখনও চলমান আছে।

এছাড়া, গিফট কার্ড যা গ্রাহকগণ নির্দিষ্ট ছাড়ে কিনতে পারত তাও অনেক দিন থেকে বন্ধ রেখেছে ইভ্যালি।

দেশীয় ই-কমার্স জায়ান্ট ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল আরেকটি বিষয়ে পরিস্কার বক্তব্য দেন, যে সম্প্রতি যুক্ত হওয়া রিওয়ার্ড পয়েন্ট বা লেভেল (সিলভার, গোল্ড, ডায়মন্ড ও প্লাটিনাম) ইত্যাদির সাথে এমএলএম-এর (ডান হাত বাম হাত) কোনো সম্পর্ক নেই। এটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তাদের গ্রাহকদের জন্য দেয়া রিওয়ার্ড পয়েন্টের মতই।

এই বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে রেফারেন্স করেন।

উল্লেখ্য, ইভ্যালি তাদের প্রায়রোটি স্টোরে স্যামসাং, এমআই, ওয়ালটনসহ প্রথম সারির সকল ইলেক্ট্রনিকস কোম্পানি, গ্রেসারি চেইন শপ স্বপ্ন, স্কয়ার, প্রাণ-আরএফএল এর পণ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া, রয়েছে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড বাজাজ, হোন্ডা, ইয়ামাহা, রানার, টিভিএস, লিফান ইত্যাদি। রয়েছে গাড়িরও বিভিন্ন ব্র্যান্ড হোন্দাই, টয়োটা।

পাশাপাশি, দেশী-বিদেশী ব্র্যান্ডের ফ্যাশন ও কসমেটিকস ব্র্যান্ডের গিফট কার্ড। এই তালিকায় রয়েছে ইয়েলো, আর্টিসান, ট্রেন্ডজ, ম্যান্স ওয়ার্ল্ড, বাটা ও জেনিস। রয়েছে অ্যাপলওয়াচ, অ্যাপল কম্পিউটার, বিকন কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ক্যামেরা ও গ্যাজেট বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান।

প্রাইয়রিটি স্টোরে হতে ক্রয়কৃত পণ্য ঢাকার মধ্যে ২৪ ঘন্টায় এবং ঢাকার বাহিরে সর্বোচ্চ ৭২ মধ্যে ডেলিভারি করা হবে। এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ইভ্যালি ২০ স্কয়ার ফুটের ওয়ার হাউস প্রস্তুত রেখেছে। এছাড়া, গ্রাহককে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিতে রয়েছে এক বিশাল কর্মী বাহিনী। ডেলিভারি টাইমলাইন ও পণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে ইভ্যালির সাথে সাপ্লায়ার / সরবরাহকারী ও লজিস্টিকস সাপোর্ট প্রতিষ্ঠানের ত্রিপক্ষিয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.