দুধের সাথে যে খাবার খেতে মানা

0 ৩৫৯

আদর্শ খাদ্য তালিকায় থাকা খাবারগুলোর মধ্যে দুধ একটি অন্যতম। দুধের খাদ্য উপাদান-এর জন্য এটি নিজেই একটি পরিপূর্ন খাবার। আমরা সবাই জানি, দুধের প্রধান প্রোটিন কোনটি? প্রোটিনছাড়াও দুধে রয়েছে মানবদেহের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি যার মধ্যে অন্যতম হলো ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন ডি, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি খাবার ও প্রোটিনের প্রধা্ন উৎস হওয়ায় এই খাবারটি অনেক সময় পরিপূরক খাবারও বলা হয়ে থাকে। এজন্য, নিরামিষভোজীদের জন্য দুধ একটি আদর্শ সুষম খাদ্য।

কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন আদর্শ এই খাবারের সাথে না জানা বশতঃ আমরা এমন কোনো খাবার খেয়ে ফেলি তখন। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরযন্ত্রের উপর। আসুন জেনে নেয়া যাক দুধের সঙ্গে কোন কোন খাবারগুলো খাওয়া একদমই ঠিক নয়।

‘দুধ-কলা’ একসাথে নয়

আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে ‘দুধ-কলা দিয়ে সাপ পোষা’। তাই বলা যায় দুধ-কলা কতটা জনপ্রিয় এই খাবারটি। আমাদের মুরব্বি বা পূর্ব পুরুষগণদের মুখে শোনা তারা নিয়মিত এই খাবারটি গ্রহণ করতেন। কিন্তু বর্তমানে গবেষণায় দেখা যায়, দুধ ও কলা দুটি দুধরণের খাবার। দুধে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২ এবং রিবোফ্লেভিন ও ক্যালসিয়ামের মত খনিজ উপাদান রয়েছে এবং উপস্থিত কার্বোহাইড্রেটের পরিমানও খুবই কম।অন্যদিকে, কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৬, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি, পাচক আঁশ, পটাশিয়াম এবং বায়োটিন-এর মত উপাদান। খাবার দুটিতে থাকা উপাদানগুলো আমাদের হজমের স্বাবাভিক কার্যক্রমকের পাশাপাশি সাইনাসের শোষনকেও ব্যহত করে দিতে সক্ষম। এতে বমি হওয়া এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাশয়ের কারণ হতে পারে।

আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রের পাশাপাশি এবিষয়ে আয়ুর্বেদেও উল্লেখ রয়েছে। আয়ুর্বেদশাস্ত্র মতে দুধ ও কলা একসাথে গ্রহণ করলে টক্সিফিকেশন জনিত কারণে শরীর তার স্বাভাবিক কার্য সম্পাদনে বাধা প্রাপ্ত হয়। এছাড়া, মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে গুরুত্বর হতাশা তৈরি হতে পারে।

তবে, দুধ ও কলার মতো উপকারী এই খাবরটি গ্রহনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন প্রায় সকল পুষ্টিবিষারদগণ। বিশেষ করে খেলোয়াড় ও নিয়মিত যারা ব্যায়াম করেন তাদের এই খাবার দুটো গ্রহণ করতে হয়। এক্ষেত্রে, পরামর্শ হলো একটি খাবার গ্রহণ হতে অন্যটি গ্রহণের বিরতি হতে হবে কমপক্ষে ২০ মিনিট।

আম-দুধ কেন একসাথে নয়?

দুধ আর কলার মত আম-দুধও ভোজন রসিক বাঙ্গালীর অতি প্রিয় একটি খাবার যা জৈষ্ঠের দা্বদাহে প্রশান্তি দেয় বলে দুপুরের ভোজ শেষে এটি পাতে না নিয়ে যেন সব অসম্পূর্ণ থেকে যায়।কিন্তু দুধ ও কলা যেমন পেটের বিপাকীয় কার্যক্রমে আঘাত হাতে তেমনই আমের সাথে দুধ হজমে সমস্য তৈরি করে।

এছাড়া, দুধের সাথে টক জাতীয় ফল কমলা, লেবু, বাতাপি লেবু, তেঁতুল, আমলা, গ্রিন আপেল, তাল, আনারস খেলেও ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দুধে থাকা প্রোটিন, ফ্যাট আর কার্বোহাইড্রেট টক ফলে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস হজমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

আনারস আর দুধ কেন একসাথে নয়?

অনান্য টক ফলের মত দুধ খাওয়ার পূর্বে কিংবা পরে আনারস খাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু আনারস খাওয়ার পর দুধ খেলে বা দুধ ও আনারস একসাথে খেলে মৃত্যু হয় মর্মে যে কুস্ংস্কার চালূ আছে তার কোনো ভিত্তি নেই। তবে, টক ফলে ফাইবার ও আঁশ হজমে গন্ডগোল তৈরি করে।

দুধ এবং আনারস একসাথে খেলে যে মৃত্যু হয় না তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো আইসক্রিম ও কাস্টার্ড। আমাদের অনেক স্বাদের বা ফ্লেভারের আইসক্রিম খাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে যার মধ্যে  আনারসও থাকে কিংবা বাসায় কোন উপলক্ষ থাকলে অথবা কোথাও খেতে গেলে ভোজের পর যে কাস্টার্ড খাই তাতেও আনারস থাকে। আইসক্রিম ও কাস্টার্ড তৈরিতে দুধের বাধ্যতামূলক। কিন্তু এগুলো খেয়ে কেউ কখনো হওয়ার কথা ভাবতে পারেন?

তরমুজের সাথে দুধ কেন খাবেন না

গ্রীষ্মের পচন্ড দাবদাহে পানিশূন্যতায় তরমুজের জুড়ি নেই। প্রচুর পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই খাবারে রয়েছে পটাশিয়াম ও ফাইবার। তাই উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ দুধ ও তরমুজ একসঙ্গে খেলে হতে পারে হজমের সমস্যা।

মাছ আর মাংসের সাথে দুধ নয়

দুধ ও মাছ কিংবা মাংস একসঙ্গে গ্রহণ করা হতে বিরত থাকা উচিত। আমরা জানি, দুধে থাকা পুষ্টির জন্য এটি একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ খাবার। খাওয়ার পর এটি হজমে আমাদের বিপাকিয় যন্ত্রকে বেশ সময় ও শক্তি দিতে হয় যা আমরা দুপুর রাত কিংবা সকালের খাবারের পর দিয়ে থাকি। তাই দুধ খাওয়ার পর মাছ কিংবা মাংসের মত গুরুপাক খাবার গ্রহণ মোটেই ঠিক নয়।

দুধ আর দই

দুধ ও দুধের তৈরি খাবার দই দু’টোয় রয়েছে উচ্চ মাত্রার প্রাণিজ আমিষ। দুটোই স্বয়ংসম্পূর্ণ খাবার এবং প্রোটিনের উৎস। তাই খাবারগুলো একসাথে খেলে হজমে সমস্যা ও পাতলা পায়খানা হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

অ্যান্টিবায়োটিক আর দুধ একসাথে নয়

দুধের সাথে ফল বা গুরুপাক খাবার না খাওয়ার বিষয়ে অবগত থাকলেও দুধের সাথে ঔষধ যে কতটা ভয়াবহ তা আমরা অনেকেই জানি না। বিশেষ করে এন্টিবায়োটিক। অ্যান্টিবায়োটিকে বিভিন্ন উপাদানের পাশাপাশি রয়েছে ক্যালসিয়াম যা দুধের সাথে মিশে দানাদার হয়ে যায়। এতে পাকস্থলীর রক্তচলাচল বিঘ্নিত হয়। তাই ঔষধ গ্রহনের আগে কিংবা পারে দুধ খাওয়া উচিত নয়। তবে, দুই ঘন্টা আগে কিংবা দুই ঘন্টা খেতে সমস্যা নেই।

শেষকথা

দুধ একটি আদর্শ খাবার ইংরেজিতে যাকে সুপার ফড বলা হয়ে থাকে। এটি অনেক খাবারের পরিপূরক হলেও দুধের কোনো পরিপূরক খাবার নেই। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের নিয়মিত দুধ খাওয়া উচিত। তবে, খেয়াল রাখতে হবে তা যেন টাটকা হয় এবং এমন কিছু মেশানো না হশ যা ক্ষতিকর। অন্যদিকে, দুধের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করতে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.