মমতা ব্যানার্জি জীবনী

0 ৮৪৮

মমতা ব্যানার্জি বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারত মহারাষ্ট্রের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অপরাজেয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্য যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের টানা তিনবারের তৃতীয়বারের মত মূখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। যেখানে তার প্রতিপক্ষ বিজেপির পার্থীকে পশ্চিমবঙ্গ মসনদে বসাতে গিয়ে কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাজ করে ব্যর্থ হয়েছেন।  অনেকের মনেই এখন প্রশ্ন জাগ্রত হবে ”কে এই মমতা ব্যানার্জি? কিভাবে তার উত্থান?” কিংবা তার এই সফলতার পেছনে কি এমন সক্রিয় ভূমিকা রেখেছ?

কে এই মমতা ব্যানার্জি?

রাজনীতিতে যে প্রতিভা কাজ করে তা দেখিয়েছেন এই মমতা ব্যানার্জি যিনি পশ্চিমবঙ্গসহ ভারত মহারাষ্ট্রে দিদি নামে পরিচিত।

মমতা ব্যানার্জির জন্ম ও কৈশোর

১৯৫৫ সালের ৫ জানুয়ারি কলকাতা হাজরা অঞ্চলের এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী পিতা প্রমীলেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। শৈশব ও কৈশোরের সময়টুক কাটে পরিবারের সাথে।

মমতা ব্যানার্জির পড়াশোনা বা শিক্ষাজীবন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার শিক্ষাজীবন শুরু করেন জন্মস্থানের বিভিন্ন স্কুলে। তিনি কলকাতার শ্রীশিক্ষালয়তন হতে বিএ পাস করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমএ পাস করেন। এছাড়া, কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

মমতা ব্যানার্জির পেশাগত জীবন

পড়াশোনা করাকালীন তিনি সক্রিয় একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজেকে অন্তর্ভূক্ত করেন। শিক্ষাজীবনেই রাজনীতির সাথে জড়িয়ে গেলে জীবনের একটা সময় তিনি শিক্ষকতা করেছেন।

মমতা ব্যানার্জির বিয়ে বা বৈবাহিক জীবন

অনেকেই জানতে চান পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির স্বামীর নাম কি? আসলে মমতা ব্যানার্জি বিয়ে করেননি।

মমতা ব্যানার্জি’র রাজনৈতিক জীবন

মমতা ব্যানার্জির রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ঊন্বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে। রাজনীতির শুরুতে তিনি একেবারে সাধারণ একজন কংগ্রেস কর্মী হিসেবে। সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে শুরু করা এই রাজনৈতিকের মধ্যে যে সম্মোহনী ক্ষমতা রয়েছে তা দলের বর্ষীয়ান নেত ও ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বুঝতে পেরে তা লিখে গেছেন।

তিনি দলের নেত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একনিষ্ঠ ভক্ত যার রাজনৈতিক জীবনের প্রথম অংশ কাটে প্রণব মুখার্জির ছায়ায়। খুব অল্পসময়েই তিনি কংগ্রেস নেত্রীর আক্ষা লাভ করেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কংগ্রেস (আই)-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি কেন্দ্রের নজর কাড়তে সক্ষম হন মূলত তাঁর পরিশ্রম, মেধা, উদ্যোম ও লড়াই করার মনোবাসনার জন্য। তারই প্রতিফলন ঘটে ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতার যাদবপুরের একটি আসনে সোমনাথ চ্যাটার্জির মত প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতাকে পরাভূত করতঃ সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে জয় লাভ করা।

এরপর অবশ্য তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। অবশ্য, এরই মধ্যে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি কংগ্রেস বিরোধী হয়ে উঠায় ১৯৮৯ সালের ভোটে তাকে হারতে হয়েছে। এদিকে, ৯১’র নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবারও লোকসভার সদস্য হন এবং কলকাতা দক্ষিণ আসন হতে পাঁচবার জয়লাভ করেন।

মমতা সর্বপথম রাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে ১৯৯১ সালে মন্ত্রীসভায় নাম লিখান এবং রেল মন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ১৯৯৯ সালে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূল দল থেকে বের হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন।

শেষের কথা

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস মূলত মমতা ব্যানার্জির একক জনপ্রিয়তার ফসল। অপরদিকে, মমতা বন্দ্যোপ্যাধায়ের এই জনপ্রিয়তা তার সহজাত প্রবৃত্তির অংশ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.