রমাদান প্ল্যানার | ক্যালেন্ডার, বই ও পিডিএফ

২৯৭

কোনো কাজ সফল ও সাবলীল ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হলে উক্ত কাজ শুরুর পূর্বে একটা প্রিপারেশন বা প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়ে থাকে। ‘রমাদান’ ইসলাম ধর্মাবলম্বী মুসলমানদের নিকট একটি কাঙ্খিত পাওয়া যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার সান্নিধ্য লাভ সম্ভব। তাই রমাদান শুরুর পূর্বেই মহান আল্লাহ’য় নিবেদিত প্রাণ মুসলমানদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এমন প্ল্যানার-এর প্রচলন না থাকলেও ২০২১ সালে শায়খ আহমদুল্লাহ পরিচালিত আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন সর্বপ্রথম রমাদান প্ল্যানার বই পিডিএফ আকারে প্রকাশ করে। রমাদান প্ল্যানার পিডিএফ বইটি প্রকাশের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তারই ধারাবাহিকতায় রমজান ২০২২ উপলক্ষ্যেও আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন রমাদান প্ল্যানার ২০২২ প্রকাশ করে যা বই, ক্যালেন্ডার ও পিডিএফ আকারে গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য অনলাইন বই বিক্রির ওয়েবসাইট রকমারি ডটকম-এর সাথে চুক্তি করা হয়েছে।

রমাদান প্ল্যানার আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

আমরা আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত রমাদান প্ল্যানার ও বিশ্বের অন্যান্য বড় বড় আলেমদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিভিন্ন রমাদান প্ল্যানার ও রমাদান প্রিপারেশন সম্বলিত লেখনী হতে আমাদের পাঠকগণের জন্য একটি রমাদান প্ল্যানার তৈরি করা হয়েছে।

রমাদান প্ল্যানার বই, ক্যালেন্ডার বা পিডিএফ কিভাবে কাজ করে

এটি মূলতঃ একজন রোজাদারদের সারাদিন বা চব্বিশ ঘন্টার একটি রুটিন। যার মাধ্যমে রোজাদার ঘুম হতে উঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কি কি করবে, কোন আমল কোন সময়ে পালন করবে এবং তা তার দুনিয়ায় কাজের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে তা নিয়ে।

এই প্ল্যানারের সময়ের সাথে হয়তো অনেকেরই মিলানো সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে, আমলটি ঠিক রেখে সময় বা সূচির পরিবর্তন পরিবর্ধন করা যেতে পারে।

আমাদের রুটিন বা সূচিটি আমরা ঘুম থেকে উঠা দিয়ে শুরু করব। এক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করব রাত দুইটা ত্রিশ মিনিটের মধ্যেই উঠে পড়তে।

রমাদান প্ল্যানার বা রমাদান প্রিপারেশন বা প্রস্তুতি

রাত ০২:৩০ হতে ০২:৪৫ 💢 ঘুম থেকে উঠা, ঘুম হতে উঠার দোয়া পাঠ, টয়লেট, ওযু।

রাত ২:৪৫ হতে ২:৫০ 💢 দুই রাকাত তাহ্যিয়াতুল ওযুর নামাজ আদায়।

রাত ২:৫০ হতে ৩:২৫ 💢 কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ আদায়।

রাত ৩:২৫ হতে ৩:৪০ 💢 বিতর আদায় ও দুয়া-মুনাজাত।

রাত ৩:৪০ হতে ৩:৫৫ 💢 সাহরী করা।

রাত ৩:৫৫ হতে ফজরের আযান পর্যন্ত কুরআন পড়া অথবা ইস্তিগফার করা।

এই সময়টুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ের আমল হলো ইস্তেগফার ও মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার কাছে দোয়া প্রার্থনা করা। এটি তাহাজ্জুদ কিংবা তারাবিহ থেকে ভিন্ন ধরনের ইবাদত। এই সময়ে আল্লাহর কাছে গুনাহের ক্ষমা চাওয়া এবং কান্নাকাটি করে প্রার্থনা করা। কারণ ফজরের পূর্বে দোয়া কবুল হওয়ার অনেক আয়াত ও হাদিস রয়েছে। এই সময়ে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং তার এমন বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য খুঁজতে থাকেন যারা অভাবগ্রস্থ, ঋণগ্রস্ত, গোনাহগার।

শেষ রাতে বা ফজরের আগে ইস্তেগফার সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও আর আমাদেরকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। তারা ধৈর্য্যধারণকারী, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী। [আল ইমরান:১৬-১৭]

এরপর ফজরের নামাজ, জিকির, কোরআন তিলাওয়াত। সম্ভব হলে এশরাক পর্যন্ত জেগে থাকবেন।

সূর্যোদয়ের পর হতে ৮:৩০ 💢 একটু ঘুমিয়ে নেওয়া যেন রাতের ঘুমের ঘাটতি পূরণ হয় দিনে ক্লান্তি না আসে।

সকাল ৮:৩০ হতে ৯:০০ 💢 ঘুম থেকে উঠা, টয়লেট, ওযু, তাহ্যিয়াতুল ওযুর নামাজ। যারা ইশরাক/দুহা না পড়ে শুয়েছেন তারা পড়ে নিতে পারেন।

সকাল ৯:১৫ হতে দুপুর ১:০০ 💢 যার যার পেশা অনুযায়ী কাজ করা। মহিলা, বয়োবৃদ্ধ কিংবা যারা বাসায় থাকবেন তারা বাসার কাজ সেরে অন্তত ১ ঘন্টা কুরআন তিলাওয়াত করা।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে মনেনমনে ইস্তেগফার কিংবা আল্লাহর স্মরণে জিকির করতে থাকবেন।
দুপুর ১:০০ হতে ১:৪৫ 💢 যোহরের সালাত আদায়।

দুপুর ১:৪৫ হতে ২:১৫ 💢 নির্দিষ্ট দিনের টার্গেট অনুযায়ী পবিত্র কোরআনুল মজিদ হতে তিলাওয়াত।

দুপুট ২:১৫ হতে ৩:৩০ 💢 দ্বীনি ইলম অর্জনের জন্য কোনো আলেমের নিকট তালিমে বসা কিংবা বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে তালিমে বসা,

এই সময়টুকু একমাস প্রতিদিন একটি করে কোরআনের আয়াত, একটি করে হাদিস ও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার গুণবাচক নাম হতে কিছু মুখস্ত করব।

দুপুর ৩:৩০ হতে ৪:৩০ 💢 দুপুরের ঘুম।

বিকেল ৪:৩০ হতে ৫:০০ 💢 ফ্রেশ হওয়া ও আসর নামাজের প্রস্তুতি।

বিকেল ৫:০০ হতে ৫:১০ 💢 আসরের সালাত।

বিকেল ৫:১০-৫:৫০ 💢 মাসনুন জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, দুয়া করা।

বিকেল ৫:৫০-৬:১৫ 💢 ইফতারি তৈরি/তৈরিতে সাহায্য করা।

সন্ধ্যা ৬:২৫ হতে ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত 💢 দুরুদ ও এস্তেগফার পাঠ এবং দোয়া।

মাগরিবের আজান হতে সন্ধ্যা ৭:১৫ 💢 ইফতার, মাগরীবের সালাত আদায়।

সন্ধ্যা ৭:১৫ হতে ৮:০০ 💢 বিশ্রাম এবং তারাবির নামাজের জন্য প্রস্তুতি। এই সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ, আত্মীয় স্বজনদের খোঁজ-খবর নেওয়া।

রাত ৮:০০ হতে ১০:৩০ 💢 এশার সালাত, তারাবীহর নামাজ আদায়।

রাত ১০:৩০ হতে ১০:৪৫ 💢 হালকা নাস্তা বা খাবার গ্রহণ।

রাত ১১:০০-১১:১৫ 💢 কুরআন তিলাওয়াত। যতটুকু মন চায়। বিশেষ করে রাতের তিলাওয়াত সুরা মূলুক।

১১:১৫-১১:৩০ → ঘুমের প্রস্তুতি।

১১:৩০→ ঘুম।

বিশেষ আমল. দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আমরা প্রতিদিন সাধ্যানুযায়ী কিছু না কিছু অর্থ বা খাবার গরীব দুঃখী মানুষকে দান খয়রাত করার চেষ্টা করব। এক্ষেত্রে, রমজানের শেষদিকে বা শেষ দশকের দান হবে একটি উৎকৃষ্ট উপায় কারন আপনার দান করার দিনটি যদি হয়ে যায় লাইলাতুল কদর-এর দিনে তো আপনি পাবেন হাজার দিন দানের মহিমান্বিত সওয়াব।

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আমাদেরকে রমাদানের হক যথাযথভাবে আদায় করার তৌফিক দান করুক। আমীন।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.