ADs BB
ADs BB

র‍্যাপিড পাস কার্ড | Rapid Pass Card

২৮৩

ঢাকায় মেট্রো রেল ভ্রমণ করতে যাত্রীকে কাউন্টার হতে লাইনে দাঁড়িয়ে কিংবা অনলাইনে টিকেট কাটতে হবে না। ১৬ ডিসেম্বর ২০২২ হতে উদ্ভোধন হতে যাওয়া মেট্রো রেলে ভ্রমণ করতে পারবেন মানি লেস র‌্যাপিড পাস বা স্মার্ট কার্ড-এর মাধ্যমে যা হবে নগদ টাকা বা ক্যাশ-এর ঝামেলামূক্ত। এটি মূলতঃ গণ-পরিবহনের জন্য একটি সমন্বিত মানি লেস (নগদ বিহীন) ই-টিকেটিং যা দিয়ে মেট্রো রেল ভ্রমণসহ এমআরটি, বিআরটি, বিআরটিসি এসি বাস সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিসি ফেরি সার্ভিস ও প্যাসেঞ্জার ভ্যাসেল ফি প্রদান করা যাবে। এটিকে আইসি কার্ড নামেও অবিহিত করা হয়। বর্তমান সরকার ২০১৪ সালে ঢাকার দুটি রুটে বাস সার্ভিস চালুর মাধ্যমে মানি লেস (নগদ বিহীন) সমন্বিত এই ই-টিকেটিং সিস্টেমটি ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিএসি)-এর মাধ্যমে চালু করে। অদুর ভবিষ্যতে এই কার্ড ব্যবহার করে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা যাবে।

র‌্যাপিড পাস বা স্মার্ট কার্ড কি?

র‌্যাপিড পাস স্মার্ট কার্ড হলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড এরে মত একটি পাস যা নির্দিষ্ট বুথ বা ব্যাংকের কিংবা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে রিচার্জ বা লোড করা যাবে। এটি পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। যাত্রি বা কার্ডধারী এই কার্ড ব্যবহার করে ভ্রমণ করতে চাইলে কার্ডটি নির্দিষ্ট মেশিনে স্পর্শ করতে হবে। এতে যাত্রি কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই মেট্রোরেলসহ অন্যান্য অনুমোদিত যান বাহনে উঠতে পারবেন। গন্তব্যে পৌছাঁনোর পর একই কার্ড পূণরায় নির্দিষ্ট মেশিনে স্পর্শ করা হলে ভাড়া বাবদ টাকা কেটে রাখা হবে। এটি জাপানের সনি কর্পোরেশন কর্তৃক তৈরিকৃত এনএফসি স্মার্ট কার্ড (NFC Smart Card)।

র‌্যাপিড পাস বা স্মার্ট কার্ড নিবন্ধনের নিয়ম

র‌্যাপিড পাস বা এমআরটি স্মার্ট কার্ড-টি পেতে গ্রাহকের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। র‌্যাপিড পাসের জন্য ডিটিএসির ওয়েবসাইট বা ডিটিএসি’র নির্দিষ্ট শপ কিংবা নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা হতে নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ করতঃ পূরণ করে জমা দিয়ে নিবন্ধন করা যাবে। নিবন্ধিত গ্রাহক অনিবন্ধিত গ্রাহক হতে কিছু বেশি সেবা প্রাপ্য হবেন। সেগুলো হলোঃ

       (১)     কার্ডটি হারিয়ে গেলে কিংবা নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হলে নিবন্ধনের সময় প্রদান করা তথ্য দিয়ে অভিযোগ করলে পুরাতন কার্ডের      ব্যালেন্স নতুন কার্ডে স্থানান্তর করা হবে।

     (২)     এছাড়া গ্রাহক কার্ডটি ব্যবহার করতে না চেয়ে ফেরত প্রদান করতে চাইলে ব্যালেন্স হতে ২% টাকা কেটে বাকি টাকা ফেরত প্রদান করা হবে।

নিবন্ধন করতে যেসকল ডকুমেন্ট বা তথ্যের প্রয়োজনঃ

এই পাসের জন্য নিবন্ধন ডিটিআইসি’র ওয়েবসাইট, অ্যাপস অনুমোদিত সেন্টর বা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক হতে করা যাবে। এজন্য একজন গ্রাহকের নাম, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধন পরবর্তী দুই কার্যদিবসের মধ্যে কার্ডটি পাওয়া যাবে।

র‌্যাপিড পাস কোথায় পাওয়া যাবে

র‌্যাপিড পাস বা এমআরটি স্মার্ট কার্ডটি ডিটিএসি’র নির্দিষ্ট শপ ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা হতে (নিবন্ধন ফরম পূরণ করেও পাওয় যাবে) ফি বা জামানত (ফেরতযোগ্য) জমা দিয়ে কার্ডটি পাওয়া যাবে। বর্তমানে ডিটিএসি’র পাঁচটি টিকেট শপ রয়েছে যেখানে র‌্যাপিড পাস পাওয়া যায়। শপগুলো আব্দুল্লাহপুর, হাউজবিল্ডিং, বনানী, শাহবাগ ও মতিঝিলে অবস্থিত। এছাড়া, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল অফিস শাখা, মতিঝিল বৈদেশিক বিনিময় শাখা, এ্যালিফ্যান্ট রোড শাখা, বনানী শাখা, গুলশান সার্কেল-১ শাখা, গুলশান শাখা, উওরা শাখা ও সোনারগাঁ-জনপথ শাখা হতেও সংগ্রহ করা যাবে।

র‌্যাপিড পাস কার্ড-এর দাম কত?

র‌্যাপিড পাস বা স্মার্ট কার্ড-টি সম্পূর্ণ ফ্রি বা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। তবে এটি পেতে হলে জামানত হিসেবে গ্রাহকে ২০০ টাকা জমা দিতে হবে যা যেকোনো সময় কার্ডটি জমাদান সাপেক্ষে ফেরত পাওয়া যাবে। এছাড়া, প্রথমবার ২০০ টাকা রিচার্জ করতে হবে যার মেয়াদ হবে অনির্দিষ্ট সময়। কার্ডটি নষ্ট হয়ে গেলে কিংবা কোনো গ্রাহক তা ব্যবহার না করতে চাইলে বিটিএসি’র নির্দিষ্ট বুথ বা ব্যাংকের শাখায় জমা করলে জামানতের ২০০ টাকা ফেরত প্রদান করা হবে। তবে, কার্ডে থাকা অব্যবহৃত ব্যালেন্স ৫% কেটে এক কর্মদিবস পর পাওয়া যাবে।

র‌্যাপিড পাস রিচার্জ পয়েন্ট

র‌্যাপিড পাস একটি ডিজিটাল ক্যাশ বা নগদ বিহীন টিকেটিং সিস্টেম যা দিয়ে বাংলাদেশের বিভন্ন এমআরটি লাইনের মেট্রোরেলের ভাড়াসহ বিআরটি, বিআরটিসি এসি বাস সার্ভিসের ভাড়া, বিআইডব্লিউটিসি’র প্যাসেন্জার ভ্যাসের ও ফেরি সাভিসের ভাড়া পরিশোধ করা যাবে। এটি দিয়ে একজন ন্যায্য মূলে ভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন। র‌্যাপিড পাসটি ক্রয় ও রিচার্জ করা যাবে ডিএটিসি’র টিকেট শপ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সকল শাখা, উপশাখা ও ফাস্ট-ট্র্যাক ও নিবন্ধিত আউটলেটসহ অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে যা হবে অ্যাপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

র‌্যাপিড পাস ব্যবহারের নিয়ম

র‌্যাপিড পাস বা এমআরটি স্মার্ট কার্ড-টি মেট্রো রেলের স্টেশনের রক্ষিত বিশেষ মেশিনে স্পর্শ  করে মেট্রো রেলে উঠা যাবে এবং গন্তব্যে পৌঁছনোর পর আবারও একই ধরনের মেশিনে স্পর্শ করা হলে কার্ডে সংরক্ষিত ব্যালেন্স হতে ভাড়া বাবদ টাকা কেটে রাখা হবে। এই কার্ডটিতে একবারে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করা যাবে এবং ব্যালেন্স ২০০০ টাকার বেশি রাখা যাবে না। এদিকে, কার্ডটিতে সর্বনিম্ন ব্যালেন্স রিচার্জ করা যাবে ১০০ টাকা। উল্লেখ্য, কার্ডটিতে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকলেও ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ একবার ব্যবহার বা ভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন, তবে এক্ষেত্রে পরবর্তী রিচাজের তা সামঞ্জস্য করা হবে। এছাড়া, কার্ড ব্যবহার করতে গিয়ে যেকোনো সমস্যায় দেয়া হবে দ্রুত সমাধান।

র‌্যাপিড পাস ব্যালেন্স দেখার নিয়ম

র‌্যাপিড পাস কার্ডটিতে থাকা গ্রাহকদের ব্যালেন্স দেখতে হলে প্রথমেই গ্রাহকে নিবন্ধিত হতে হবে। এক্ষেত্রে, একজন গ্রাহক অ্যাপস-এ তার কার্ডের ব্যালেন্সসহ বিস্তারিত দেখতে পাবেন। অন্য দিকে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত গ্রাহক উভয়েই বাস, ট্রেন কিংবা অন্য যেকোনো একটি সাভিসের জন্য দেওয়া মূল্য পরিশোধ করার জন্য কার্ডটি মেশিনে টাচ্ বা স্পর্শ করলে মেশিন তাকে একটি বিল ভাউচার প্রদান করবে যেখানে তিনি তার সর্বশেষ সেবার মূল্য ও কার্ডে তার বর্তমান স্থিতি জানতে পারবেন। এছাড়াও গ্রাহক যেকোনো কাউন্টার বা অনুমোদিত শপ হতে কার্ডের তথ্য প্রদান করা সাপেক্ষে ব্যালেন্স জানতে পারবেন।

পাসটি হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে করণীয়

কার্ডটি হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কিংবা থানায় অভিযোগ করার প্রয়োজন নেই। নিবন্ধনের সময় দেয়া তথ্য জানিয়ে গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে ফোন করে প্রথমে কার্ডটি লক বা বন্ধ করে দিতে হবে। পরবর্তীতে যেকোনো অনুমোদিত নিবন্ধন সেন্টারে গিয়ে নতুন কার্ড তুলতে চাইলে আগরে কার্ডের তথ্য প্রদান করা সাপেক্ষে একটি স্লিপ দেয়া হবে যা দিয়ে পরের কার্যদিবসে কার্ড উত্তোলন করা যাবে। এক্ষেত্রে, পূর্বের কার্ডের ব্যালেন্স নতুন কার্ডে স্থানান্তর করা হবে। তবে, নতুন কার্ডের জন্য ২০০ টাকা ফি প্রদান করতে হবে। হারানো পাসটি পাওয়া গেলে তা নিয়ে যেকোনো অনুমোদিত শপ বা সেন্টারে দেওয়া হলে ফি বাবদ ১০ টাকা কেটে রেখে তথ্য যাচাই করতঃ সত্যতা নিশ্চিত করে জামানত ফি ফেরত প্রদান করবে।

শেষকথা

রাজধনীর গণপরিবহনে যাত্রীদের ভাড়া পরিশোধ ও দীর্ঘসময় লাইনে দাড়িয়ে টিকেট কাটা তথা গণপরিবহন সেবা সহজীকরণ করার লক্ষ্যে ঢাকার সব পাবলিক বাসে পর্যায়ক্রমে ‘র‌্যাপিড পাস’ কার্ডের ব্যবহার কার্যক্রম পরিচালনা করতে কাজ করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ। র‌্যাপিড পাস সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে http://rapidpass.com.bd/ এই ঠিকানায়। এছাড়া ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি বর্তমানে রাজধানীর গুলশানস্থ নগর ভবনের ১৩ ও ১৪ তলায় অবস্থিত। অদুর ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির শাখা অফিস স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.